বুকের দুধে মা ও শিশুর উপকার

মায়ের বুকের দুধ শিশুর জীবনধারণ ও বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য। জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

শিশু জম্মের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এসময় পানি বা অন্য কোনো পানীয় খাওয়ানোর দরকার নেই। কেননা, মায়ের দুধেই আছে শতকরা ৯৫ ভাগ পানি।অন্যান্য পুষ্টিগুন তো আছেই। ৬ মাসের পার থেকে পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি ২ বছর পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুকে দিনে রাতে ৮-১২ বার বুকের দুধ খাওয়ানো যেতে পারে।

শাল দুধ: প্রসবের পরে মায়ের বুকে প্রথম যে দুধ আসে তা শালদুধ। এ দুধ ঘন, আঁঠালো এবং একটু হলুদ রংয়ের। প্রসবের পরে প্রথম ২-৩ দিন যতটুকু শালদুধ আসে তাই নবজাতকের জন্য যথেষ্ট। অনেকে শিশু জম্মের পরপরই মধু, চিনি বা পানি দিয়ে থাকে। অথচ, এসময় শিশুকে পানি, মধু বা চিনির পানি দেয়া শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই জম্মের পরপর শালদুধ ছাড়া আর কিছু দেয়া যাবে না। এসব দিলে পাতলা পায়খানা হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অন্যদিকে শিশুর বুকের দুধ খাবার আগ্রহ কমে যায়।

শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা:

(১) শালদুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে ।

(২) শালদুধ আমিষ সমৃদ্ধ এবং এতে প্রচুর ভিটামিন-এ আছে।

(৩) এতে আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

(৪) শালদুধ শিশুর পেট পরিষ্কার করে এবং নিয়মিত পায়খানা হতে সাহায্য করে।

(৫) শিশুর জন্ডিস হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

বুকের দুধে আছে মা ও শিশুর উপকার: বুকের দুধ খেলে শুধুমাত্র যে শিশুর উপকার আছে তা নয়। এতে আছে মায়েরও উপকার।

ক শিশুর উপকার:

(১) মায়ের দুধে শিশুর প্রয়োজনীয় সব ধরণের পুষ্টি উপাদান থাকে সঠিক মাত্রায়। আর তাই, ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট। মায়ের দুধে পুষ্টি উপাদান ছাড়াও আছে শতকরা ৯৫ ভাগ পানি। সেইজন্য শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত আলাদা পানি দেবার প্রয়োজন নেই।

(২) বুকের দুধ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত। বায়ু বা পানি বাহিত জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হবার সুযোগ নেই। মায়ের দুধে আছে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মার উপাদান। ফলে শিশুর অসুখ বিসুখ বিশেষ করে ডায়রিয়া, কান পাকা রোগ, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালীর রোগ, হাঁপানী, এলার্জি, চুলকানি ইত্যাদি সংক্রমণের আশংকা কমে যায়।

(৩) শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব শিশু কৌটার দুধ খায় তাদের তুলনায় মায়ের দুধ যারা খায় তাদের বুদ্ধির বিকাশ বেশি হয়।

(৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার ফলে অসুস্থ হলেও শিশু তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়।

(৫) মায়ের দুধ শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে দেয়।

(৬) মায়ের দুধ সহজে হজম হয়। প্রাথমিক অবস্থায় শিশুর দেহ জটিল খাবার হজম করতে পারে না। কিন্তু মায়ের বুকের দুধের উপাদান সহজে হজম হয়।

(৭) মায়ের দুধে পূর্ণমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকে বলে শিশুর রাতকানা হবার সম্ভাবনা থাকে না।

(৮) পরবর্তীতে শিশুর ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি ভয়াবহ রোগ হাবর সম্ভবনা কমে যায়।

(খ) মায়ের উপকার:

(১) জম্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ দিলে মায়ের প্রসবজনিত রক্তপাত বন্ধ হয়। পরবর্তীতে রক্তস্বল্পতা হয় না। গর্ভজনিত স্ফীত জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

(২) শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্বাস্থ্য ভারো থাকে।

(৩) যেসব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের স্তন, জরায়ু এবং ডিম্বকোষের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কম থাকে।

(৪) ৫ মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে স্বাভাবিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে এবং ২ বৎসর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ালে ঘন ঘন গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

(৫) বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের আত্নবিশ্বাস বাড়ে। শিশুর সঙ্গে মায়ের আত্মিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

(৬) মায়ের দুধ নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত এবং মায়ের বাড়তি খাটুনি ও সময় বাঁচায় এবং অর্থের সাশ্রয় হয়।

Scroll to Top

For Admission&Appointment

For Emergency&Ambulance

Padma General Hospital-290 Sonargaon Road Dhaka-1205-103 Veeruttam C.R.dotto Road